Friday, September 10, 2021
তৃণমূলের হাতছাড়া হলো দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, দখল বিজেপির
BJPমালদা;শেখ পান্না;১০সেপ্টেম্বর: এবার মালদহের রতুয়া-১ ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হল তৃণমূলের।গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করল বিজেপি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হলেন বিজেপির লালটু চৌধুরী।এদিকে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়াতেই নিজেদের দলের বিধায়ককে আক্রমণ করেন রতুয়া-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি ফজলুল হক। এদিকে পঞ্চায়েত প্রধান গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বিজেপির জোর তরজা।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২০ আসন বিশিষ্ট দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি ৮-টি করে আসন পায়।বাকি চারটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২-টি এবং সিপিএম ও নির্দল ১-টি করে আসন দখল করে। কংগ্রেস সিপিএম এবং নির্দলের সহযোগিতা পেয়ে পঞ্চায়েত প্রধান হন তৃণমূলের পঙ্কজ মিশ্র।মাস চারেক আগে পঙ্কজ বাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসেন পঞ্চায়েতের ১৫ জন সদস্য। প্রধানের পক্ষের চারজন শাসকদলের সদস্য ছাড়া বাকি ১৫ জন সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা পেশ করে ২৮ অগাস্ট। স্বাভাবিকভাবে অপসারিত হতে হয় তৃণমূলের প্রধান পঙ্কজ মিশ্রকে। বৃহস্পতিবার ছিল নব-নির্বাচিত প্রধান গঠনের দিন।আজ ছিল প্রধান গঠনের দিন ২০ জন সদস্যের মধ্যে মোট ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৪-জন গরহাজির।ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির লালটু চৌধুরী। অপসারিত তৃণমূলের প্রধান পঙ্কজ মিশ্রের স্বপক্ষে ভোট পড়ে ৪-টি অন্যদিকে বিজেপির সদস্য লালটু চৌধুরীর স্বপক্ষে ভোট পড়ে মোট ১২ টি , বিজেপির ৮ জন সদস্য তার সমর্থনে ভোট দেন বাকি সিপিএম,কংগ্রেসের ও নির্দলের ৪-টি ভোট পড়ে বিজেপি সদস্য লালটু চৌধুরীর স্বপক্ষে।স্বাভাবিকভাবে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন বিজেপির লালটু চৌধুরী। এদিন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় প্রধান গঠন প্রক্রিয়া। প্রধান গঠনকে কেন্দ্র করে যেন অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পঞ্চায়েত দপ্তরের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। এদিনে উপস্থিত ছিলেন রতুয়া-১ ব্লকের বিডিও রাকেশ টোপ্পো জয়েন্ট বিডিও সৈকত দত্ত রতুয়া থানার আইসি সুবীর কর্মকার।
বিজেপির নবনির্বাচিত প্রধান লালটু চৌধুরী জানান বিজেপির মাইনোরিটি সেলের রাজ্য সভাপতি শেখ ইয়াসিনের নেতৃত্বে দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে আনতে পেরেছি। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অপসারিত প্রধান পঙ্কজ মিশ্র দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ করছিলে।তার বিরুদ্ধে গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসি।কিন্তু প্রশাসনিক কারণে এতদিন আটকে ছিল। গত আগস্ট মাসের ২৮ তারিখে প্রধানের বিরুদ্ধে আমরা ১৫ জন সদস্য অনাস্থা পেশ করেছিলাম।আজকে ছিল প্রধান গঠনের দিন। বিজেপির ৮ সিপিএম কংগ্রেস ও নির্দলের ৪ সদস্যের সমর্থনে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।
এই প্রসঙ্গে রতুয়া-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি ফজলুল হক জানান রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান সমর মুখোপাধ্যায় এবং আমাদের দলের একাংশ যারা বিধায়কের খুব ঘনিষ্ঠ তাদের মদতে বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বিজেপির বোর্ড গঠন করা হলো। আমরা খুব দুঃখিত ও মর্মাহত।যিনি বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিধায়কের একাউন্ট এজেন্ট হিসেবে ছিলেন তিনি ২০১৯ সালে বিজেপি দল করেছিলেন তার নেতৃত্বে আমাদের তিনজন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপির বোর্ড গঠন করতে সাহায্য করেছেন।এটা দল বিরোধী কাজ। বিষয়টি জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। রতুয়া-১ ব্লকের ৭-টি তৃণমূল পরিচালিত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে কায়দা ও কৌশল করে অপসারিত করা হয়েছে।বিষয়টি এর আগেও জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব কে জানিয়েছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।আমাদের পঞ্চায়েত সমিতি ও একই কায়দায় ও অনাস্থা হয়েছে।গত বিধানসভা নির্বাচনে নির্দলের হয়ে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেসামুদ্দিন ভোট করেছিলেন তিনি আমাদের বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
মালদা: রেশনের দোকানে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে গন্ডগোল
সেই সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করায় দুই মহিলাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। শুক্রবার সকালে এই ঘটনায় এক প্রস্ত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ইংরেজবাজার থানা বাগবাড়ি খুয়ার মোড় এলাকায়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে আক্রান্ত দুই মহিলার নাম রেজিনা বিবি এবং খাওয়ানুর বিবি। বর্তমানে তারা মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের অভিযোগ স্থানীয় খুয়ার মোড় এলাকায় রেশন আনতে গিয়েছিলেন তারা। ঠিক এই সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে গন্ডগোল হয়। অভিযোগ এর পরই তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে সাজির শেখ এবং কালু শেখ। অভিযোগ প্রতিবাদ করায় লাঠিসোটা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা দুইজন সহ পাঁচ জন মিলে তাদের ওপর চড়াও হয়। বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই দুই প্রতিবাদী মহিলার নাক এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় দুই মহিলাকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।




